আগামী কয়েক মাসে পাম অয়েলের দাম বাড়তে পারে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ডিজেল উৎপাদনে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ পাম অয়েল ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার।

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে ডিজেল উৎপাদনে বাধ্যতামূলকভাবে ৫০ শতাংশ পাম অয়েল ব্যবহারের উদ্যোগ নিয়েছে ইন্দোনেশিয়া সরকার। উদ্যোগটি বি৫০ নীতি নামে পরিচিত। ইন্দোনেশিয়া সরকারের নতুন এ বায়োডিজেল নীতির প্রভাবে আগামী কয়েক মাসে পাম অয়েলের দাম ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন শিল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও বিশ্লেষকরা। খবর নিক্কেই এশিয়া।

ইন্দোনেশিয়া সরকার ২০০৮ সালে বায়োডিজেল উৎপাদনে মাত্র ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে পাম অয়েলের ব্যবহার শুরু করেছিল। বর্তমানে দেশটিতে ডিজেলের মধ্যে পাম অয়েলের বাধ্যতামূলক ব্যবহারের অনুপাত ৪০ শতাংশ পর্যন্ত। এখন প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সাবিয়ান্তোর প্রশাসন এটিকে আগামী বছর ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে। কিছু সরকারি কর্মকর্তা বলছেন, এটি আগামী বছরের দ্বিতীয়ার্ধে বাস্তবায়ন হতে পারে।

ভারতের ভোক্তাপণ্য কোম্পানি গদরেজ ইন্টারন্যাশনালের পরিচালক দোরাব মিস্ত্রি বলেন, ‘‌আগামী মাসে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিতে (১ হাজার ২০০ ডলার) পৌঁছতে পারে। জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে তা পৌঁছতে পারে টনপ্রতি ৫ হাজার ৫০০ রিঙ্গিত পর্যন্ত।’

পাম অয়েল ভোজ্যতেল, সাবান ও যানবাহনের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার হয়। ইন্দোনেশিয়া কৃষিপণ্যটির শীর্ষ উৎপাদন ও রফতানিকারক দেশ। এরপর রয়েছে মালয়েশিয়ার অবস্থান।

মিস্ত্রি বলেন, ‘ইন্দোনেশিয়া যদি বি৫০ নীতি বাস্তবায়ন করে, তাহলে সামনের দিনগুলোয় পাম অয়েলের ঘাটতি দেখা দিতে পারে। সে সময় দাম উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে যাবে।’

হামবুর্গভিত্তিক এগ্রিকালচার ও কমোডিটি বিশ্লেষণ সংস্থা অয়েল ওয়ার্ল্ডের সিইও থমাস মিয়েলকে বলেন, ‘‌আগামী ছয় মাসে পাম অয়েলের দাম টনপ্রতি ৫ হাজার রিঙ্গিতে পৌঁছতে পারে। বি৫০ নীতি কার্যকর হলে তা আরো বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে। এছাড়া ইন্দোনেশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজারেও তার প্রভাব স্পষ্ট দেখা দেবে।’

তিনি জানান, ইন্দোনেশিয়ায় পাম অয়েল উৎপাদন আগামী বছর ও ২০২৭ সালে কমবে। যদিও ইন্দোনেশিয়া সরকার ছয় লাখ হেক্টর জমিতে নতুন করে পাম চাষের ঘোষণা দিয়েছে। কিন্তু উৎপাদন ২০২৮ বা ২০৩০ সালের আগে বাড়বে না।

তবে ইন্দোনেশিয়ান পাম অয়েল অ্যাসোসিয়েশন (জিএপিকেআই) ২০২৬ সালে পাম অয়েল উৎপাদন ৩-৪ শতাংশ বাড়ার পূর্বাভাস দিয়েছে। এর আগে ২০২৫ সালে ৪ কোটি ৯৬ লাখ টন পাম অয়েল উৎপাদনের পূর্বাভাস দিয়েছিল সংস্থাটি।

২০২৫ সালের জানুয়ারি-অক্টোবর পর্যন্ত পণ্যটির গড় দাম ছিল টনপ্রতি ১ হাজার ২১৭ ডলার। জিএপিকেআইয়ের দেয়া পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী বছরের প্রথম প্রান্তিকে পাম অয়েলের দাম ১ হাজার ৫০ ডলার থেকে ১ হাজার ১২৫ ডলারের মধ্যে থাকতে পারে।

ব্লুমবার্গ ইন্টেলিজেন্সের বিশ্লেষক আলভিন তাই জানিয়েছেন, ইন্দোনেশিয়া সরকারের বি৫০ বাস্তবায়ন সহজ হবে না। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বৃহৎ অর্থনীতি হিসেবে ইন্দোনেশিয়াকে রফতানি বাণিজ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। পাম অয়েল, কয়লা ও নিকেল দেশের তিনটি প্রধান রফতানি পণ্য। তাই অর্থনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা করতে দেশটির সরকারের উচিত দ্রুত রফতানি কৌশল বাস্তবায়ন করা।

ফাস্টমার্কেটস পাম অয়েল অ্যানালিটিকসের ব্যবস্থাপনা সম্পাদক সত্যিয়া ভারকা বলেন, ‘‌যুক্তরাষ্ট্র ইন্দোনেশিয়ার ওপর ১৯ শতাংশ শুল্ক থেকে পাম অয়েলকে অব্যাহতি দিলেও বার্ষিক রফতানির পরিমাণ না বাড়ার আশঙ্কাই বেশি।’

এছাড়া ইউরোপের সঙ্গে দেশটির চলমান আলোচনা সমাধান হয়নি। গত বছর ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ইন্দোনেশিয়াকে ২০২৫ সালের শেষ পর্যন্ত বন নিধন আইন (ইইউডিআর) মেনে চলার সময়সীমা বাড়িয়েছে। এ আইনের মাধ্যমে ২০২০ সালের পর বন নিধন করা জমিতে উৎপাদিত পণ্য রফতানি বন্ধ করার কথা বলা হয়েছে।

আরও